স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক-কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের সন্মাননা জানালো ড্যাফোডিলের সাংবাদিকতা বিভাগ
সাইদুর রহমান
গত ১৫ই ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের (জেএমসি) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক-কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের সন্মাননা জানানো হয়। ‘৫০ এর ১৬’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি ইসমাত কাদির গামা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অভিভাবকদের মধ্যে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হেকিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার নূরুল আমিন, এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থ বিভাগের পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক খান, অ্যালাইড হেলথ সায়েন্স অনুষদের সহযোগী ডিন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. বেল্লাল হোসেন, ও ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শামসুল হককে এই সন্মাননা জানানো হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন ইসমাত কাদির গামা
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে সন্মাননা জানান ইসমাত কাদির গামা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এম এম হামিদুর রহমান।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ মিয়াকে উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এম এম হামিদুর রহমান।
‘৫০ এর ১৬’ শীর্ষক বিজয়ের উদযাপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মাননা জানানোর পাশাপাশি স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন ও অগ্রযাত্রা নিয়ে সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের (জেএমসি) শিক্ষার্থীদের নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র Roar of Bengal Tigers এবং ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড নিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নির্মিত একটি ডকু-ফিকশনও প্রদর্শনী করা হয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী হতাকান্ড নিয়ে নির্মিত সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থীদের নির্মিত ডকু-ফিকশনের একাংশ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসমাত কাদির গামা বলেন, অনেক রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এই দেশ কারও দানে পাওয়া নয়। আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এসব সত্য তরুণ প্রজন্মকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এসময় তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানান এরকম একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য।
শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ মিয়া
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইসমাত কাদির গামা বলেন, জয় বাংলা হচ্ছে রণধ্বণি। এটি কোনো দলের স্লোগান নয়। এটি হচ্ছে সমস্ত বাঙালির জাতীয় স্লোগান। এসব ইতিহাস আমাদের তরুণদেরকে জানতে হবে।
শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছেন ইসমাত কাদির গামা
তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরে আসার সুদীর্ঘ গল্প শোনান শিক্ষার্থীদেরকে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এই দেশকে এখন বিশ্বের বুকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব হচ্ছে তোমাদের।
শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালাইড হেলথ সায়েন্স অনুষদের সহযোগী ডিন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. বেল্লাল হোসেন
মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনছেন শিক্ষার্থীরা
‘৫০ এর ১৬’ শীর্ষক দুই দিনের এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসজুড়ে লাল-সবুজের আলোকসজ্জা, বিজয়ের আলোকচিত্র, বিজয় ফানুস ওড়ানো, মোমবাতি প্রজ্বলন, বিজয়ের চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বিজয় গ্রাফিতি অংকন, সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত, ফ্ল্যাশ মব, বিজয় র্যালী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও আয়োজন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে লাল-সবুজের আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো ড্যাফোডিল ক্যাম্পাস
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং ফানুস উড়িয়ে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে শিক্ষার্থীরা














