New Post has been published on https://sentoornetwork.com/tourisy-spot-of-bengal/
পিকনিকের চমৎকার একটি বাংলা শব্দ আছে– চড়ুইভাতি। শব্দটি আঞ্চলিক হলেও প্রচলিত এবং জনপ্রিয়। শীতের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পিকনিক বা চড়ুইভাতির এক মিল আছে। রোজের রুটিন একটু অন্যরকম করার জন্যই চড়ুইভাতি বা পিকনিক। শৈশবে সকলে মিলে ছাদে বা চিলেকোঠায় রান্না করে খাওয়ার মধ্যে একটা অনন্য আনন্দ ছিল। এখনও আছে। ছাদ পেরিয়ে চাঁদোয়ার তলায়, গাছের ছায়ায়, নদীর ধারে, দিঘির পাশে এখন পিকনিক বা চড়ুইভাতির আসর বসে। নানাবিধ খেলারও আয়োজন হয়। তা কোথায় যাবেন পিকনিকে? ভাবছেন? রইল পিকনিকের কিছু ঠিকানা।
বনভোজনের চমৎকার এক জায়গা মালঞ্চ। গাছগাছালি ভরা, মরশুমি রং আর পাখির ডাকে শীতের নরম রোদ্দুর গায়ে মেখে পিকনিক করার যে-মজা, আনন্দ তা মালঞ্চতে মিলবেই। টলটলে দিঘির জলে বোটিং করা যায়। এখানে একাকী বসে সময় কাটিয়ে যায় আবার পিকনিকে এসে সকলে মিলে হইহল্লাও ভাল লাগবে। আসলে পরবেশটি অপূর্ব! তবে পিকনিকে যাওয়ার আগে খোঁজ নিন। কি কি করতে হবে।
যাবেন হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনের ট্রেন ধরে রসুলপুর নেমে সেখান থেকে অটো বা রিকশাতে মালঞ্চ। গাড়ি থাকলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে যেতে হবে।
আর একটি পরিচিত আর জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ফুলেশ্বর। গঙ্গার ধারে গাছপালায় ভরা মনোরম জায়গা। গঙ্গার ধারে বিস্তীর্ণ জায়গা। যেখানে ইচ্ছা বসে পিকনিক করা যায়। সেচ দফতরের বাংলো আছে। যদি ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে এর থেকে ভাল কিছু হবে না। বারান্দায় বসে নদীর রূপ-সৌন্দর্য অনুভব করতে পারবেন। দেখবেন কেমন করে নৌকোগুলো ভেসে যায় নদীর বুকে! শীতের গঙ্গার শীতল হাওয়ায় বেশ রোম্যান্টিক লাগবে!
হাওড়া থেকে দক্ষিণ শাখার মেচেদা, খড়্গপুর বা মেদিনীপুরগামী ট্রেনে, ফুলেশ্বর নামতে হবে। হাঁটা বা রিকশা পথেই ফুলেশ্বর। গাড়িতে গেলে জাতীয় সড়ক ধরুন।
সামতাবেড় নামটির সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালির প্রিয় সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা। শরৎচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম সামতাবেড়। রূপনারায়ণের তীরে চমৎকার বনভোজনের জায়গা। শীতের আরামদায়ক রোদ্দুরে বহু মানুষ এবং প্রকৃতিপ্রেমী আসেন এই রূপনারায়ণের ধারে। কেউ আসেন চড়ুইভাতিতে আবার কেউ আসেন নদীর ধারে শীতের দিন উপভোগ করতে। তবে পিকনিক করতেই বেশি লোক আসেন।
নদীর পাড় ঘেঁষে সব পিকনিকের জায়গা। গরম গরম আর পকোড়া নিয়ে নৌকায় উঠে পড়ুন। বেশ লাগবে রূপনারায়ণের বুকে ভেসে বেড়াতে! হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের অন্দরে যান। বাংলার গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ শীতের রোদ্দুর মেখে! বনভোজনের অবসরে একফাঁকে ঘুরে শরৎচন্দ্রের বাড়ি। ভাল লাগবে।
হাওড়া-খড়্গপুরগামী ট্রেনে দেউলটি স্টেশনে নেমে ভ্যানরিকশায় সামতাবেড়। গাড়িতে গেলে সোজা পৌঁছে যাবেন সামতাবেড়।
https://sentoornetwork.com/wp-content/uploads/2019/12/BERANO-2nd-PART_x264.mp4